শিক্ষক শুধু পেশা নয়, ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর: শফিকুল ইসলাম খান
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষকতার মর্যাদা, দায়িত্ব, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা এবং একটি আলোকিত সমাজ নির্মাণে শিক্ষকদের অবদান নিয়ে লিখেছেন শিক্ষক, কবি ও সমাজকর্মী শফিকুল ইসলাম খান।
তাঁর লেখায় তিনি উল্লেখ করেন, একজন ডাক্তার মানুষের জীবন বাঁচাতে পারেন, একজন প্রকৌশলী ভবন নির্মাণ করতে পারেন কিংবা একজন বিজ্ঞানী পৃথিবীকে চমকে দেওয়ার মতো আবিষ্কার করতে পারেন। কিন্তু এসব মানুষকে তৈরি করেন একজন শিক্ষক। তাই তাঁর মতে, শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়; বরং অন্যের ভবিষ্যৎ গড়তে নিজের বর্তমানকে নিঃশর্তে উৎসর্গ করার নাম শিক্ষকতা।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসকে শুধু ফুল দেওয়া কিংবা শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিজেদের কাছে কিছু প্রশ্ন রাখার দিন হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়—আমরা কেমন শিক্ষক চাই, কেমন শিক্ষার্থী হতে চাই, কেমন অভিভাবক হতে চাই এবং কেমন সমাজ গড়ে তুলতে চাই—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা প্রয়োজন।
শফিকুল ইসলাম খান তাঁর লেখায় ভারতের দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, অধ্যাপক ও রাষ্ট্রনায়ক সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক শুধু বই পড়ান না; বরং ভুলের পর কীভাবে উঠে দাঁড়াতে হয়, ব্যর্থতার পর কীভাবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়, অন্যকে কীভাবে সম্মান করতে হয় এবং জ্ঞানকে কীভাবে জীবনের আলোতে পরিণত করতে হয়—সেসবও শেখান।
তাঁর মতে, একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় উপহার হলো তাঁর শিক্ষার্থীর সাফল্য। একজন শিক্ষক জীবনে হাজারো শিক্ষার্থী পড়ালেও প্রত্যাশা থাকে—তাঁর কোনো একটি কথা, উৎসাহ কিংবা বিশ্বাস একজন শিক্ষার্থীর হৃদয়ে ধারণ হয়ে তাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে এবং সমাজে আলো ছড়াবে।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, তাঁদের শেখানো একটি বাক্য, একটি উৎসাহ কিংবা একটি অবিচল বিশ্বাস কখনো কখনো একটি জীবন, সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা পুরো পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে। একজন শিক্ষক কর্মস্থলে কয়েক বছর থাকলেও একজন সত্যিকারের শিক্ষক তাঁর শিক্ষার্থীর ভেতরে সারাজীবন বেঁচে থাকেন।
শিক্ষকের আত্মত্যাগ বোঝাতে তিনি ইংরেজিতে প্রচলিত একটি উদ্ধৃতিও উল্লেখ করেন—
«“A teacher is like a candle.
It consumes itself to light the way of others.”»
এছাড়া কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ কবিতার ভাবনাকে সামনে এনে তিনি বলেন, ভয়শূন্য, মুক্ত ও আলোকিত মন গড়ে তোলাও একজন শিক্ষকের অন্যতম উদ্দেশ্য।
শফিকুল ইসলাম খানের মতে, একজন শিক্ষক শুধু পরীক্ষার উত্তর শেখান না; তিনি জীবনের কঠিন প্রশ্নের সামনে দাঁড়ানোর সাহসও দেন। তাই বর্তমান সময়ে একজন শিক্ষকের শুধু Information Provider হলে চলবে না; তাঁকে একই সঙ্গে Mentor, Guide এবং Role Model হিসেবেও ভূমিকা পালন করতে হবে।
লেখার শেষাংশে তিনি শিক্ষকদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সম্মানকে শুধু একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, একজন শিক্ষক সারাজীবনই শিক্ষক। আর শিক্ষক শুধু স্কুল, মাদরাসা, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন—সমাজের যেকোনো ক্ষেত্রেও একজন শিক্ষক তাঁর আলো ছড়িয়ে যেতে পারেন।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে পৃথিবীর আগত, অনাগত, গত ও কর্মরত সকল শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখাটি শেষ করেন শিক্ষক, কবি ও সমাজকর্মী শফিকুল ইসলাম খান।